পুরুষত্বহীনতার প্রতিকার আছে যোগব্যায়ামে
আজকের আধুনিক সমাজে, নতুন যুগের মানুষ অনায়াসে শারীরিক সুস্থতা, সাজসজ্জার প্রবণতা এবং এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে অকপটে কথা বললেও যৌন সুস্থতার বিষয়টি এখনও বিব্রতকর বলে মনে করেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষরা বিছানায় তাদের ত্রুটিগুলি স্বীকার করেন না। কিন্তু পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে এই সমস্যা বহু পুরুষ ফেস করেন। এই সমস্যাকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা সংক্ষেপে ED বলে।
ED বিভিন্ন কারণে ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের আসক্তি, অনিদ্রা, সেইসাথে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের মানসিক বৈশিষ্ট্যের মতো শারীরিক কারণ।
এই ধরনের স্বাস্থ্যগত অসঙ্গতির ফলে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পুরুষদের যৌনশক্তি এবং লিবিডো হ্রাস করে।
ডাক্তারদের কাছ থেকে যথাযথ ওষুধ এবং চিকিত্সার পাওয়া যায় বটে। তবে পুরুষদের মধ্যে যৌন ড্রাইভকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে যোগের প্রাচীন অনুশীলন।
এই নিবন্ধটির মাধ্যমে পাঁচটি সমন্বিত ভঙ্গি এবং ব্যায়ামের বর্ণনা করে যেমন যোগাসন, যা অসাধারণভাবে টেস্টোস্টেরন সংশ্লেষণকে উন্নত করে, পেলভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে এবং পুরুষদের যৌন জীবনের গুণমানকে ব্যাপকভাবে উন্নত করে।
চিকিৎসা
ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর প্রথমে খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ১, নং ৬, নং ৮, নং ৯ এবং নং ১০ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন।
এরপর কুম্ভকাসন, ধনুরাসন, উত্থিত পদাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা, অর্ধমুখ শবাসন, ভদ্রাসন বা গোরক্ষাসন এবং নৌকাসন নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
অন্যান্য উপকারিতা
কাঁধ এবং বাহুকে শক্তিশালী করে।
এটি মেরুদণ্ড বরাবর পেশী শক্তিশালী করে।
এটি পেটের পেশী শক্ত করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়।
প্লিহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়।
পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়।
মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে।
এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।
পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
পেটের পেশীর শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় এই আসন অভ্যাসকারীর কখনও হার্নিয়া হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ের হার্নিয়া থাকলে সেরে যায়।
মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়।
সায়টিকা, পাইলস বা অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য হয়।
আমাশয় রোগ নিরাময় হয়।
পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।
থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।
দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।
হাঁপানি সেরে যায়।
স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়।
স্ত্রী-পুরুষদের যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয়; পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।
মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস এবং হালকা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।
শরীরে শক্তি যোগায়।
কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, বাছুর, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।
হাত ও পা মজবুত করে।
লিভার – কিডনিকেও সুস্থ রাখে এই আসন।
এই আসনের মাধ্যমে প্রবল বাড়ে যৌনতা।
পেলভিক পেশির ওপরে চাপ পড়ার ফলে বাড়ে লিবিডো। নারী -পুরুষ উভয়ের পক্ষেই এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী।
পেট, কাঁধ, হাত, নিতম্বের পেশির রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হজম ক্ষমতা বাড়ে।
স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমোন গ্রন্থিকে উজ্জীবিত করে।
আরামদায়কভাবে জড়তা কাটিয়ে সামগ্রিকভাবে কাজে উৎসাহ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।
তরতাজা ভাব ফিরে আসে।
নিজেকে ফিট রাখা যায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
