মাংসপেশির ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। কোনো কারণে মাংসপেশির শক্তি কমে গেলে, অতিরিক্ত কাজ বা অতিরিক্ত ট্রেনিং করলে, সহিষ্ণু ক্ষমতা (এনডুরেন্স পাওয়ার) কমে গেলে ব্যথা হয়। 

আবার কোনো কারণে মাংসপেশিতে খিঁচুনি (মাসল ক্রাম্প) হলে, থেঁতলে (ব্রুইজিং) গেলে, আঘাতে মাংসপেশি সম্পূর্ণ বা আংশিক ছিঁড়ে গেলে অথবা বাতরোগেও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়। 

কিছু অসুখে নির্দিষ্ট কিছু মাংসপেশির নির্দিষ্ট স্থানে ব্যথা হতে পারে, যেমন ফাইব্রোমায়ালজিয়া। 

বিভিন্ন রকম ট্রমা বা আঘাতের কারণে হাড়ের জোড় ছুটে গেলে (জয়েন্ট ডিসলোকেশন) অথবা হাড়ের জোড় আংশিক ছুটে গেলেও (সাবলাক্সেশন) নির্দিষ্ট মাংসপেশিতে ব্যথা হয়।

তবে যে কারণেই ব্যথা হোক পেইন কিলার খাবেন না। এটি দীর্ঘমেয়াদে খেলে হার্ট, কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।

চিকিৎসা

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং৯, নং ১১, নং ১২ এবং নং ১০ অনুশীলন করুন। 

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ করুন। 

এরপর পশ্চিমোত্তানাসন, জানুশিরাসন, বৃক্ষাসন, সেতুবন্ধ আসন এবং বিপরীতকরণী মুদ্রা অভ্যাস করুন। 

সবশেষে শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা

মেরুদণ্ড, মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভালো হয়।

সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য হয়। 

আমাশয় রোগের প্রথম অবস্থাতেও বিশেষ উপকারী। 

পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।

অর্শ, কটিবাত এবং সায়টিকা নিবারণ হয়।

দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

পায়ের, কোমরের ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

পিঠের পেশী মজবুত করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে; বুক, ঘাড় এবং মেরুদণ্ড প্রসারিত করে। 

মস্তিষ্ককে শান্ত করে, উদ্বেগ, চাপ এবং বিষণ্নতা কমায়। 

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

মেনোপজ এবং মাসিক ব্যথার উপসর্গ উপশম করে। 

হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিসে কার্যকর।

জরা ও ব্যাধি দূরীভূত হয়।

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।

সতর্কতা

যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।