আপনার শরীর প্রকৌশল, রাসায়নিক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার একটি মূল্যবান এবং চমত্কার অংশ। আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই বাড়িতে থাকি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এটিকে অবহেলা করি, অপব্যবহার করি বা এটি সম্পর্কে সচেতন নই।



উদাহরণস্বরূপ, লিভার একটি বিস্ময়কর অঙ্গ যা আমাদের শরীরে ৫০০টি কার্য সম্পাদন করে। এটি পিত্ত উৎপাদন করে যা আমরা যে খাবার খাই তা ভেঙে দেয়; বিষাক্ত পদার্থ এবং রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করে; বিলিরুবিন, কোলেস্টেরল, হরমোন এবং ওষুধ নির্গত করে; চর্বি, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট বিপাক করে; গ্লাইকোজেন, ভিটামিন এবং খনিজ সঞ্চয় করে; প্লাজমা, প্রোটিন এবং অনেক, আরও অনেক ফাংশন সংশ্লেষণ করে। এখনও দুঃখের বিষয় যে আজকাল লাইফস্টাইল প্যাটার্নগুলি সমস্তই লিভারের ক্ষতি করার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে।

মদ্যপান, ধূমপান, ওষুধের অত্যধিক ব্যবহার, চর্বিযুক্ত খাবার, শর্করা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সবই আমাদের লিভারের এই পরিশ্রমী অঙ্গের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। 

পুরুষদের মধ্যে এটি পুরুষত্বকেও প্রভাবিত করে কারণ একটি অতিরিক্ত বোঝা লিভার কার্যকরভাবে ইস্ট্রোজেনকে ভেঙে ফেলতে পারে না, যা পুরুষ ও মহিলাদের যৌনাঙ্গে উৎপাদিত হয়। 

তাহলে ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি উপায় কী? ফ্যাটি লিভারের ব্যায়ামগুলোই বা কী? সবার আগে ফ্যাটি লিভার টেস্ট করে নিবেন। এছাড়া ফ্যাটি লিভার হলে কি খাওয়া উচিত বা কি উচিত না সেগুলোও চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেবেন।

আমাদের জীবনে লিভারের অসাধারণ গুরুত্ব সম্পর্কে জানার পরে, আসুন দেখি কীভাবে যোগব্যায়াম ফ্যাটি লিভার বা অন্যান্য ত্রুটিগুলি সংশোধন করতে সহায়তা করতে পারে। 

আপনার যোগব্যায়াম অনুশীলনে অবশ্যই এমন আসন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা পেটের অংশকে মোচড় দেয়, সংকুচিত করে, প্রসারিত করে এইভাবে লিভারকে প্রভাবিত করে। এটা শিথিলকরণ অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। 

যোগ চিকিৎসা

প্রথমে ওয়ার্ম আপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ৬/৫টি ব্যায়াম করুন। তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।

তারপর পশ্চিমোত্তানাসনঅর্ধমৎস্যেন্দ্রাসনপূর্ণ মৎস্যেন্দ্রাসন এবং হলাসন করবেন। 

সবশেষে আবার ৫ মিনিট শবাসন করেন ব্যায়াম শেষ করুন।

অন্যান্য উপকারিতা

ব্যায়ামগুলো শরীরের প্রায় সবগুলো ফাংশন উন্নত করতেই সহায়ক।


সতর্কতা

যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।

সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।