আজ যদি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের চরিত্রবান, সুস্থ, সৰল, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবী করে তুলতে হয়, তাহলে তাদের অবিলম্বে কয়েকটি খালি হাতে ব্যায়ামের সঙ্গে এই ওয়েবসাইটে প্রদত্ত যৌগিক ব্যায়ামের মধ্য থেকে নিজ নিজ প্রয়োজনমত ৭/৮টি যোগ ব্যায়াম বেছে নিয়ে প্রদত্ত নির্দেশমত অভ্যাস করানো একান্ত আবশ্যক।

এর জন্যে ব্যায়ামাগার তৈরীর বা যন্ত্রপাতি কেনার জন্যে সরকারের বা অভিভাবকদের কোন অর্থব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।


ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সেই ১৯৭৪ সাল থেকেই দশম শ্রেণীর পাঠক্রমে ব্যায়াম ও খেলাধূলাকে আবশ্যিক শিক্ষণীয় বিষয় হিসাবে গ্রহণ করেছেন।

ভারত সরকারের শিক্ষাদপ্তর ( মিনিস্ট্রি অব্ এডুকেশন্, গভর্ণমেন্ট অব্ ইন্ডিয়া) কর্তৃক গঠিত, ব্যায়ামশিক্ষা ও আমোদ-প্রমোদ উপদেষ্টা পর্ষদ (সেন্ট্রাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড অব্ ফিজিক্যাল্ এডুকেশন অ্যান্ড রিক্রিয়েশন্ ) যে ব্যায়াম শিক্ষা ও অবসর বিনোদনকারী আমোদ-প্রমোদের তালিকা ( এ ন্যাশানল্ প্ল্যান্ অব্ ফিজিক্যাল্ এডুকেশন অ্যান্ড্ রিক্রিয়েশন্ ) প্রস্তুত করেছেন, যোগ ব্যায়াম সেই তালিকায় একটি বিশিষ্ট স্থান লাভ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রবর্তিত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠক্রম

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রবর্তিত পাঠক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর উপযোগী পাঠ্য তালিকা নিম্নে দেওয়া হলঃ


ষষ্ঠ শ্রেণী— ১। পদ্মাসন বা মুক্ত পদ্মাসন, ২। বজ্রাসন, ৩। সুপ্ত বজ্রাসন, ৪। অর্ধকূর্মাসন,

৫। শবাসন


সপ্তম শ্রেণী— ১। ভুজংগাসন, ২। শলভাসন, ৩। ধনুরাসন, ৪। পশ্চিমোত্তানাসন, ৫। শবাসন


অষ্টম শ্রেণী— ১। অর্ধচন্দ্রাসন, ২। পদহস্তাসন, ৩। অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন৪। গোমুখাসন । শবাসন


নবম ও দশম শ্রেণী


১। সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা, ২। হলাসন, ৩। চক্রাসন, ৪। যোগমুদ্রা,। ৫ উষ্ট্রাসন, ৬। শীর্ষাসন, ৭। শবাসন 


উপরে প্রদত্ত প্রতি আসন প্রতিবারে সামর্থ্যমত ২০/৩০ সেকেন্ড অভ্যাসের পর ১০/১৫ সেকেন্ড শবাসন অভ্যাস করতে হবে—ঐভাবে প্রতি আসন ও শবাসন ৪ বার অভ্যাস করতে হবে। 

আসন অভ্যাসের পূর্বে খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাসের দ্বারা শরীরের জড়তা কাটিয়ে দ্রুত রক্ত সঞ্চালিত করে শরীরকে আসন অভ্যাসের উপযোগী করে নেওয়া উচিত।