এটি বরং বিব্রতকর শোনাতে পারে, কিন্তু কুঁচকির ব্যথা বেশ বাস্তব এবং নিয়মিত ক্রিয়াকলাপ পরিচালনা করতে তীব্র অস্বস্তি এবং সমস্যা সৃষ্টি করে। 

এটি প্রধানত ঘটে যখন ভিতরের উরুর পেশীগুলো অতিরিক্ত প্রসারিত বা ছিঁড়ে যায়। এটি কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে আপনি জানার আগে, প্রথমে কুঁচকির এলাকা সম্পর্কে জানি। 


কুঁচকি এলাকা কোনটি?


কুঁচকির অংশে সাধারণত একদল অ্যাডাক্টর পেশী থাকে যা ভিতরের ঊরুতে থাকে, পিছনের হ্যামস্ট্রিং এবং পায়ের সামনের অংশে কোয়াড্রিসেপস থাকে। কুঁচকির অংশের একটি অংশ গঠনকারী পেশীগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাডাক্টর ম্যাগনাস, অ্যাডাক্টর ব্রেভিস, গ্র্যাসিলিস, অ্যাডক্টর লংগাস এবং পেকটিনাস। 


অ্যাডাক্টরদের প্রধান কাজ হলো পায়ে স্থিতিশীলতা এবং শক্তি প্রদান করা, ভিতরের উরু একত্রে ধরে রাখা এবং শরীরের বিভিন্ন গতি যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, আরোহণ ইত্যাদিতে সাহায্য করা।


কীভাবে কুঁচকির পেশী টানা হয়?


কুঁচকির পেশীগুলো দৌড়ানো, লাফ দেওয়া বা দিক পরিবর্তনের মতো কার্যকলাপের সময় খুব দ্রুত সংকুচিত হয়। যদিও এটি সাধারণত ক্রীড়াবিদ এবং সকার, হকি, ফুটবল এবং নাচের মতো ক্রিয়াকলাপের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়, তবে এটি যে কারও ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। 


এটি আরও সাধারণ হয় যখন কুঁচকির পেশীগুলো উষ্ণ হয় না এবং সেই জায়গায় হঠাৎ নড়াচড়া হয় যা পেশীগুলিকে প্রাকৃতিক সীমার বাইরে প্রসারিত করে হঠাৎ টান সৃষ্টি করে।


এটি সাধারণত উরুর ভিতরের অংশে কোমলতা এবং অস্বস্তি, হাঁটু তোলার সময় ব্যথা বা পা ভাঁজ করা, কুঁচকির অংশে ফোলা বা বিবর্ণতা এবং পেশীতে ছিঁড়ে গেলে শক্তি বা নড়াচড়া হ্রাসের মতো লক্ষণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।


যেহেতু প্রাকৃতিক সীমার বাইরে আকস্মিক প্রসারিত হওয়ার ফলে একটি টানা কুঁচকির কারণ হয়, তাই নিয়মিতভাবে কুঁচকির অংশ নিয়ে গঠিত পেশীগুলিকে প্রসারিত এবং শক্তিশালী করার মাধ্যমে কেউ সহজেই টানা কুঁচকি এড়াতে পারে। 


আপনাকে স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস দিতে, আমরা আপনার জন্য যোগাসনের আকারে ওষুধমুক্ত একটি উজ্জ্বল প্রতিকার নিয়ে এসেছি। এই পুরানো অভ্যাসটি শুধুমাত্র আপনাকে অসংখ্য স্বাস্থ্যগত অসঙ্গতির চিকিত্সা করতে সাহায্য করে না বরং সামগ্রিক শরীরের শক্তি এবং নমনীয়তা উন্নত করে, বিশেষ করে কুঁচকির এলাকা এবং আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।


ব্যথার জন্য দীর্ঘদিন ওষুধ না খাওয়াই ভালো। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 

এরপর বৃক্ষাসন, উষ্ট্রাসন, অর্ধকূর্মাসন, শলভাসন এবং ভদ্রাসন বা গোরক্ষাসন নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং পায়ের, কোমরের ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।


মেরুদণ্ড নমনীয় হয় অথচ মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ু, পেশীতন্তু প্রভৃতি সবল হয়।


দেহ বৃদ্ধ বয়সেও বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ত হয় না। বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখে। উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।


বুকের বেষ্টনীর হাড় বাড়ে। বুকের খাঁচার আকার বৃদ্ধি পায়।


কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়।


বীর্যধারণশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্তিস্খলন হ্রাস পায়।


হাঁপানি সেরে যায়।


যকৃত ও পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। আমাশয় ভালো হয়।


বুক ও পেটের মাঝখানকার পর্দাটির ক্রিয়া ভালো হওয়ায় হৃদযন্ত্র ও হজমযন্ত্রের কাজ ভালো হয়।


পেটের নিচের ও পাছার পেশীগুলো মজবুত হওয়ায় এবং মেরুদণ্ডের কাজ ভালো হওয়ায় কোমরের ব্যথা, সায়টিকার ব্যথা ও কটিবাত ইত্যাদি সেরে যায়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, খাবার পর পেটফাঁপা রোগ সারায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে।


মেয়েদের অনেকদিনের ঋতুকালীন মাজা ব্যথা আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয়।


স্বপ্নদোষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং বীর্যধারণ সহজ হয়।


মেয়েদের বস্তি ও হাঁটুর স্নায়ুমণ্ডলী বিশেষ প্রসারিত হওয়ায় সবল হয়। ফলে তাদের সন্তান প্রসবকালে বিশেষ কষ্ট পেতে হয় না।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।