ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা নিরাময়ে যোগব্যায়াম
ঘাড় ব্যথা অত্যন্ত সাধারণ এবং বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপগুলো অন্তর্ভুক্ত যেমন একটানা ল্যাপটপে কাজ মতো বিষয়ও রয়েছে।
আপনার শরীরের এই অংশে ব্যথা হতে খুব বেশি সময় লাগে না এবং সেই ব্যথা আপনার কাঁধ এবং পিঠ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ঘাড় ব্যথা মাথাব্যথার সৃষ্টি করে এমনকি বড় কোনো অসুখেও এটি পরিণত হতে পারে।
যোগব্যায়াম অনুশীলন ঘাড় ব্যথা পরিত্রাণ পেতে একটি চমৎকার উপায়। একটি গবেষণায় যোগব্যায়াম ব্যথা উপশম এবং নয় সপ্তাহ ধরে যোগব্যায়াম করা ব্যক্তিদের কার্যকর উন্নতি দেখা গেছে।
অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি আপনার শরীরে যে কোনও উত্তেজনা প্রশমন করতে শিখতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী ঘাড় ব্যথার চিকিৎসায় যোগব্যায়াম কার্যকর হতে পারে।
কখনো পেইন কিলার খাবেন না। ব্যথার ওষুধ ব্যপক ক্ষতিকর। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।
যোগ চিকিৎসা
তারপর বীরভদ্রাসন, আকর্ণ ধনুরাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, গোমুখাসন এবং পর্বতাসন অভ্যাস করুন।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
অন্যান্য উপকারিতা
ফুসফুসের কার্য ক্ষমতা বাড়ে।
কোমরের ব্যাথায় উপকারী।
দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
পায়ের ও পিঠের পেশী মজবুত হয়।
শরীরের গঠন সুন্দর হয়।
ঘাড়ের ব্যাথায় উপশম হয়।
যকৃতের কাজ ভাল হওয়ায় হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
ছোট ছেলেমেয়েদের হাত বা পায়ের হাড়ের কোন দোষত্রুটি থাকলে সেরে যায়।
বয়স্ক লোকদের হাত বা পায়ে বাত হলে বা সায়টিকা থাকলে নিরাময় হয়।
মেরুদণ্ডের উত্তম ব্যায়াম হয়।
কটিবাত, পৃষ্ঠবাত, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অজীর্ণ নিরাময় হয়।
পাইলস বা অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্সম্নিয়া) দুর করে এবং কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে।
মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
