আমাদের আধুনিক সমাজে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব একটি প্রধান সমস্যা, প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ্যা দম্পতির সমস্যা শুধুমাত্র পুরুষ সঙ্গীর মধ্যে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০ জনের মধ্যে ১ জন পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম এবং প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের শুক্রাণুর সংখ্যা শূন্য। 

পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি হলো শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং প্রচণ্ড চাপের মাত্রা হ্রাস, যা পুরুষের উর্বরতার জন্য সঠিক জীবনধারা ব্যবস্থাপনা এবং যোগব্যায়ামের মাধ্যমে অনেকাংশে সংশোধন করা যেতে পারে।

পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থা এর জন্য দায়ী শুক্রাণু তৈরি, সংরক্ষণ এবং পরিবহন। এই ফাংশনগুলি টেস্টোস্টেরন এবং অ্যান্ড্রোজেনের মতো হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বন্ধ্যাত্ব সমস্যা হলো:


শুক্রাণু সম্পূর্ণরূপে বৃদ্ধি পায় না,


শুক্রাণু অদ্ভুত আকৃতির,


গতিশীলতা সমস্যা,


শুক্রাণুর সংখ্যা খুবই কম


শুক্রাণুর সংখ্যা শূন্য


পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ


অনেক জৈবিক ও পরিবেশগত কারণ পুরুষের উর্বরতাকে প্রভাবিত করে। সবচেয়ে সাধারণ হলো:


জীবনধারা পছন্দ


ধূমপান


মদ্যপান


কিছু ওষুধ


দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা (যেমন কিডনি ব্যর্থতা)


শৈশব সংক্রমণ (যেমন মাম্পস)


ক্রোমোজোম বা হরমোনের সমস্যা


অ্যাজোস্পার্মিয়া


ভ্যারিকোসেল

 

এর মাধ্যমে, আমরা উপসংহারে পৌঁছাতে পারি যে, পুরুষের উর্বরতার জন্য একটি প্রসারিত যোগব্যায়াম বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে এবং স্বাভাবিকভাবে পুরুষদের উর্বরতা স্বাস্থ্যকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

 

যোগব্যায়াম কিভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে?


যোগব্যায়াম হলো একটি শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন যেখানে আপনি কীভাবে মন-শরীর সংযোগ স্থাপন করবেন তা শিখবেন। পুরুষ বন্ধ্যাত্বের জন্য যোগব্যায়াম নিম্নলিখিত উপায়ে পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে উর্বরতা স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:


আসন বা ভঙ্গি রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে এবং আপনার শরীরকে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে। শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক রক্ত ​​সঞ্চালন অপরিহার্য।


প্রাণায়াম বা সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল প্রশান্ত মন পেতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ উপশম করে। মানসিক চাপের কারণে পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব ৭০ শতাংশ। 


ধ্যান আপনাকে আধ্যাত্মিক, মানসিক এবং শারীরিকভাবে উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি শুক্রাণুর গতিশীলতা এবং এর উৎদনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।


যোগব্যায়াম পুরুষদের লিবিডো বা যৌনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যৌন মিলনের উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি গর্ভাবস্থার উচ্চ সম্ভাবনার দিকে পরিচালিত করে।


জীবনধারা কি পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যাকে প্রভাবিত করে?


কম শুক্রাণুর সংখ্যা এবং কম শুক্রাণুর গতিশীলতা সারা বিশ্ব জুড়ে যুবকদের মধ্যে আজ উদ্বেগের কারণ। প্রমাণ দেখায় যে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শুক্রাণুজেনেসিসের উপর পৃথক জীবনধারা বা পরিবেশগত কারণগুলির প্রধান প্রভাব এবং পুরুষদের জন্মপূর্ব এক্সপোজারগুলি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শুক্রাণু উৎপাদনের ক্ষমতার উপর একটি বড় প্রভাব ফেলে।


যাইহোক, এটি স্বজ্ঞাতভাবে মনে হয় যে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে আমাদের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপের স্তরে বড় পরিবর্তনগুলি শুক্রাণুজেনেসিসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি দেখায় যে যোগ অনুশীলনগুলি নিউরোহরমোনাল প্রক্রিয়াগুলিকে ট্রিগার করে যা স্ট্রেস এবং উদ্বেগ হ্রাস করে, স্বায়ত্তশাসিত ফাংশনগুলিকে উন্নত করে এবং এইভাবে, প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে। তাই, সুপরিচিত উর্বরতা বিশেষজ্ঞ এবং ডাক্তাররাও পুরুষ বন্ধ্যাত্বের জন্য উর্বরতা যোগের পরামর্শ দেন।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ১, নং ৬, নং ৮, নং ৯ এবং নং ১০ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর সেতুবন্ধ আসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রাধনুরাসন, হলাসন, ভদ্রাসন বা গোরক্ষাসন অশ্বিনী মুদ্রা, নাড়ী শোধন প্রাণায়াম এবং ভস্ত্রিকা নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


অন্যান্য উপকারিতা


পিঠের পেশী মজবুত করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে; বুক, ঘাড় এবং মেরুদণ্ড প্রসারিত করে। 

মস্তিষ্ককে শান্ত করে, উদ্বেগ, চাপ এবং বিষণ্নতা কমায়। 

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়।

মেনোপজ এবং মাসিক ব্যথার উপসর্গ উপশম করতে এই ব্যায়ামটি প্রভূত সহায়ক । 

এছাড়া হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিসে খুবই কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে ।

থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।

এই আসন দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


প্লীহা, যকৃৎ ভাল থাকে।


হাঁপানি সেরে যায়।


স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়।


স্ত্রী-পুরুষদের যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয়।পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।


পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়।


বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে।


এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।


সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।


অর্শ, ভগন্দর প্রভৃতি গুহ্যরোগ সেরে যায়।


দেহের প্রাণশক্তি বৃদ্ধি করে এবং জরা, ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে।


টনসিল, প্যারালাইসিস, মাইগ্রেন, হৃদরোগ এবং নানান ধরনের গলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।