ফিস্টুলা মলদ্বারের একটি জটিল রোগ। এটি ভগন্দর নামেও পরিচিত। মলদ্বারের ভেতরের সঙ্গে বাইরের নালি তৈরি হওয়াকে বলা হয় ফিস্টুলা। এটি অতি প্রাচীন রোগ।


এ রোগটির উৎপত্তি হয় মলদ্বারের বিশেষ ধরনের সংক্রমণের কারণে। মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। 

এই ফোড়া একসময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের, কোনো একস্থানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে। এ সংক্রমণের কারণে মলদ্বারে প্রচুর ব্যথা হয়। 


রোগী সারা দিন ব্যথায় কাতরাতে থাকেন। পুঁজ বের হওয়ার পর ব্যথা কমতে থাকে। মলদ্বারে পার্শ্বস্থিত কোনো স্থানে এক বা একাধিক মুখ দিয়ে মাঝেমধ্যে পুঁজ বের হয়ে আসাকে আমরা ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলে থাকি।


মলদ্বারের ক্যান্সার এবং বৃহদন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগেও ফিস্টুলা হয়ে থাকে। মলদ্বারে যক্ষ্মার কারণেও ফিস্টুলা হতে পারে।


ফিস্টুলা দুই প্রকার—


সাধারণ ফিস্টুলা : এটি মলদ্বারের মাংসপেশির খুব গভীরে প্রবেশ করে না, বিধায় চিকিৎসা সহজসাধ্য।


জটিল ফিস্টুলা : এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে এবং তা নির্ভর করে এর নালিটি মলদ্বারের মাংসের কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে এবং কতটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাইরের মুখ পর্যন্ত এসেছে। 


এগুলোর চিকিৎসা সত্যিকার দুঃসাধ্য। তার পর যদি এ নালি একের অধিক হয় তা হলে তো আর কথাই নেই। এ রোগের অপারেশনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো সঠিকভাবে অপারেশন সম্পাদন করতে ব্যর্থ হলে রোগী মল আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।


ফিস্টুলা বা ভগন্দরের লক্ষণ বা উপসর্গ


এ রোগের লক্ষণ মূলত তিনটি। যেমন- ১. ফুলে যাওয়া, ২. ব্যথা হওয়া এবং ৩. নিঃসরণ বা পুঁজ ও আঠালো পদার্থ বের হওয়া।

বেশিরভাগ রোগীই আগে মলদ্বারে ফোড়া হয়েছিল বলে জানান। ভেতরে ফোড়া হাওয়ার জন্য ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। যখন এগুলো ফেটে মুখ দিয়ে কিছুটা পুঁজ বের হয়ে যায় তখন ব্যথা এবং ফোলা কমে যায়। 


নিঃসরণ বা পুঁজ পড়া সাধারণত মাঝে মাঝে হয়। কখনও কখনও ২-৪ মাস রোগটি সুপ্ত থাকে।


কখনও কখনও মলের সঙ্গে পুঁজ ও আম পড়তে থাকে। সমস্যা একটানা না থাকার কারণে রোগীরা অনেক সময় ভাবেন যে সম্ভবত ভালো হয়ে যাব।  কিন্তু দু’চার মাস পর আবার এটি দেখা দিতে পারে। 


ব্যায়াম কি ফিস্টুলার জন্য ভালো?


আপনি যদি ফিস্টুলায় ভোগেন, তাহলে আপনার লক্ষণগুলি পরিচালনা করতে ডাক্তার নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিতে পারেন।তবে কঠিন ব্যায়াম এড়ানো উচিত। 


ডাক্তার আপনার অবস্থার উপর নির্ভর করে কয়েকটি হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেবেন, এই ব্যায়ামগুলি পায়ূর পেশীগুলিকে শিথিল করতে পারে এবং মলত্যাগ সহজ করতে পারে। 


নিয়মিত শারীরিক উদ্দীপনা কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফিস্টুলার কিছু সঠিক ব্যায়াম যা আপনাকে ব্যথা ও অস্বস্তি মোকাবেলায় সাহায্য করবে।


নিয়ম ও পথ্য


সকালের নাস্তা বন্ধ রাখবেন। দুপুরেও  একটু ক্ষুধা রেখে খাবার শেষ করবেন। বিকালে খুব ক্ষুধা লাগলে ফলের রস বা রসাল ফল দিয়ে নাস্তা করবেন। রাকে হালকা খাবার খাবেন। 


মাসে ২ দিন রোজা বা সম্পূর্ণ উপবাস দিবেন।


স্বাভাবিক খাবার খাবেন। তবে শাকসবজি বেশি করে খাবেন। 


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে যেকোনো ৫/৬টি ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর বজ্রাসনমালাসনপ্রপাদাসনউত্থিত পদাসনপবন মুক্তাসন  এবং সিদ্ধাসন নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


এছাড়া প্রতিদিন ভোরে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাস করুন। এতে কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকবে। 


অন্যান্য উপকারিতা


সায়টিকা, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না।


খাবার সহজে হজম হয়।


উরু, কুঁচকি, নিতম্ব, গোড়ালি এবং সমস্ত শরীর প্রসারিত করে।

পেটের পেশীগুলিকে টোন করে।

কোলনের কার্যকারিতা উন্নত করে।

রক্ত ​​প্রবাহ বাড়িয়ে যৌন শক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

ভারসাম্য, ঘনত্ব এবং ফোকাস উন্নত করে।

পা, গোড়ালি, কাফ মাসল, হাঁটু এবং উরুকে শক্তিশালী করে।

হিপ ফ্লেক্সার, হ্যামস্ট্রিং এবং কুঁচকি প্রসারিত করতে সহায়তা করে।

পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

অভ্যাসকারীর কখনও হার্নিয়া হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ের হার্নিয়া থাকলে সেরে যায়।

দাস্ত সহজ ও তরল হয়।


যকৃত, প্লীহা ও পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।


পেট থেকে বায়ু নিঃসরণে সহায়তা করে পেটের পেশীকে সবল করে, পেটের চর্বি কমায়।


জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।