উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের মতে, প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তবুও অনেক লোক জানে না যে তাদের এটি আছে।
![]() |
| উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম |
লাইফস্টাইলের পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপ উন্নত করতে বা প্রতিরোধ করতে পারে। গবেষণা দেখায় যে যোগব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
রক্তচাপ ঠিক কী? এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ কি?
রক্তচাপ হলো আপনার হৃদপিণ্ড আপনার রক্তনালীগুলির দেয়ালের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করে। যদি আপনার হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে এবং আপনার রক্তনালীগুলি নমনীয় হয় তবে আপনার সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালনের জন্য খুব বেশি শক্তির প্রয়োজন হয় না।
যাই হোক, যদি আপনার হৃদপিণ্ডে চাপ থাকে বা আপনার রক্তনালীগুলি অনমনীয় এবং নমনীয় হয়ে যায়, তবে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য আরও শক্ত পাম্প করতে হবে।
এর ফলে হৃৎপিণ্ডের উপর আরও চাপ পড়ে এবং আপনার রক্তনালীগুলির দেয়ালের ক্ষতি হয়, আপনার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য বিপজ্জনক স্বাস্থ্য অবস্থার ঝুঁকি বাড়ায়।
উচ্চ রক্তচাপের সঠিক কারণ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
➡️পারিবারিক ইতিহাস
➡️বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তনালীগুলি স্বাভাবিকভাবেই কম স্থিতিস্থাপক হয়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
➡️লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্য বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যখন মহিলাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
➡️জাতি: আফ্রিকান আমেরিকান বা কালো আমেরিকানদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি।
➡️দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CHD)
➡️ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস যেমন:
❎শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
❎ নিচুমানের খাবার
❎ধূমপান
❎অতিরিক্ত মদ্যপান
❎মাত্রাতিরিক্ত ওজনের হচ্ছে
❎ মানসিক চাপ
যদিও আপনি আপনার পারিবারিক ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে আপনি আরও ভাল লাইফস্টাইল পছন্দ করতে পারেন যা আপনার রক্তচাপকে একটি স্বাস্থ্যকর পরিসরে রাখে। এর এখানেই আসে যোগব্যায়ামের প্রসঙ্গ।
কীভাবে যোগব্যায়াম আপনার রক্তচাপকে সাহায্য করতে পারে
উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে যোগব্যায়ামের যে উপকারিতা থাকতে পারে তা অসংখ্য গবেষণায় দেখানো হয়েছে।
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উচ্চ রক্তচাপের জন্য চিকিৎসা করা লোকদের জন্য সপ্তাহে তিনবার যোগব্যায়ামের ব্যবহার পরীক্ষা করা হয়েছে।
ফলাফলগুলে দেখায় যে যারা যোগব্যায়াম অনুশীলন করেন তাদের রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে যারা করেননি তাদের তুলনায়।
একটি সমীক্ষায় ধমনীর নমনীয়তার উপর এক ঘন্টার যোগ ক্লাসের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। আপনার রক্তনালীগুলি যত বেশি নমনীয় হবে, রক্ত প্রবাহের জন্য কম চাপ প্রয়োজন এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তত কম হবে। গবেষকরা দেখেছেন যোগব্যায়াম করার পর মানুষের ধমনী আরও নমনীয় হয়।
আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে যোগব্যায়াম করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। কিছু ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট যোগব্যায়াম ভঙ্গিগুলি এড়ানো উচিত।
সর্বদা আপনার ডাক্তারের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং আপনার যোগব্যায়াম অনুশীলনে আপনার রক্তচাপ কীভাবে সাড়া দেয় সেদিকে মনোযোগ দিন।
চিকিৎসা
ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং ৮, নং ৯, নং ১০ এবং নং ১১ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন।
এরপর অর্ধকূর্মাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, বদ্ধকোণাসন, জানুশিরাসন, বীরাসন ও সুখাসন এবং যোগনিদ্রা নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
এছাড়া সকালে ও সন্ধ্যায় ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করলে ভালো হয়।
অন্যান্য উপকারিতা
যকৃৎ ও পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
আমাশয় নিরাময় হয়।
মেরুদণ্ড, মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়।
সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য হয়।
পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।
মেরুদণ্ডকে সবল করে। মেরুদণ্ডের কর্মক্ষমতার উপরই আমাদের যৌবন ও স্বাস্থ্য নির্ভর করে।
পিঠ, নিতম্ব এবং উরুর পেশীগুলির ব্যথা কমাতে, নমনীয়তাকে উৎসাহিত করতে এবং গতির পরিসর বাড়াতে সহায়তা করে।
শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তি আনে।
মননশীলতা উন্নত করে। মানসিক চাপ কমায়।
পেলভিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
মূত্রাশয়ের দোষ দুর হয়।
প্যানক্রিয়াসের কাজ ভাল হয়।
পাইলস বা অর্শ, পায়ের বাত, কটিবাত সারানো এবং সায়টিকা নিবারণ করে।
একাগ্রতা বাড়ে। দীর্ঘজীবন লাভ করা যায়।
পুরাতন কোষ্ঠবদ্ধতা দুর করতে সহায়তা করে।
পেটে চর্বি জমতে পারে না।
জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়।
হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।
মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
