যোগব্যায়াম সামগ্রিক অর্থে একজনের শরীরকে পুষ্ট এবং টোন করার সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং কার্যকর পদ্ধতি হিসাবে রাজত্ব করে। যদিও বেশিরভাগের জন্য ফোকাস সাধারণত ওজন কমানোর দিকে থাকে, কারো কারো জন্য ওজন বাড়ানোও লক্ষ্য থাকে। 

যোগব্যায়াম জীবনের একটি অবিশ্বাস্য উপায় যাতে ওজন বৃদ্ধিসহ সমস্ত স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান রয়েছে। এটি দুর্বল বিপাক, ক্ষুধার অভাব এবং হজমের মতো সমস্যাগুলি সমাধান করে। এর বিভিন্ন এবং প্রতিশ্রুতিশীল আসনগুলির সাথে, এটি রক্ত এবং অক্সিজেনের ভাল সঞ্চালন নিশ্চিত করে, সারা শরীর জুড়ে পুষ্টি জমা করে। 


এই নিবন্ধটি এমন কয়েকটি যোগাসনের উপর আলোকপাত করে যা প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে, এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।


যোগব্যায়ামের পাশাপাশি ডায়েট টিপস


শুধুমাত্র যোগাসন করলে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে না। আপনার একটি সুষম খাদ্য থাকতে হবে যা ওজন বাড়াতেও সাহায্য করে। 


একজন ব্যক্তির ওজন বৃদ্ধির জন্য একটি খাদ্য তালিকাও অনুসরণ করা আবশ্যক। এই আসনগুলির সাথে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আশাব্যঞ্জক ফলাফল নিশ্চিত করবে। 


প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর চর্বি নিশ্চিত করবে। চাপাতি, ভাত, সুজি, ডাল এবং ওটস থাকা আবশ্যক।


তা ছাড়া ওজন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত বাদাম, কুমড়ার বীজ, তিসির বীজ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সয়া চাঙ্কস, টফু, ডিম এবং মাংস খেতে হবে। ফল এবং শাকসবজি থাকাও গুরুত্বপূর্ণ যা শরীরে স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ শর্করা জমা করবে।



কয়েকটি প্রশ্ন ও উত্তর


প্র: আমি কীভাবে জানব যে আমি সঠিক ওজনের?


উ: আপনার ওজন পরীক্ষা করার সঠিক উপায় হল BMI (বডি মাস ইনডেক্স)। যদি এটি 18.5-এর নিচে হয়, তাহলে আপনার ওজন কম, যদি এটি 18.5-24.9-এর মধ্যে হয়, আপনি সুস্থ, যদি এটি 24.9-29.9-এর মধ্যে হয়, আপনার ওজন বেশি এবং যদি এটি 30-এর উপরে হয়, আপনি স্থূল। ভবিষ্যতে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা না হওয়ার জন্য আপনি সুস্থ থাকার জন্য কাজ করছেন তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।


প্র. শরীরের সর্বোত্তম ওজন বজায় রাখার জন্য কিছু খাবার কী কী?


উ: যে কারো সর্বোত্তম ওজনের জন্য, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর সাথে একটি সুষম খাদ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন: প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ভিটামিন এবং প্রোটিন। কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে সবুজ শাক-সবজি, রঙিন ফল, ডাল, চাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এবং মাংস। ফিট থাকা এবং একটি ভাল ইমিউন সিস্টেম থাকা গুরুত্বপূর্ণ।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং ৮, নং ৯, নং ১০ এবং নং ১১ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর চক্রাসনধনুরাসনভুজংগাসনবজ্রাসন,  সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রামৎস্যাসন এবং পশ্চিমোত্তানাসন িনিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


মেরুদণ্ড প্রসারিত হয়। যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।


পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়, মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে। কোমরে বাত হতে পারে না।


মহিলাদের বেলায় স্তনগ্রন্থির শিথিলতা রোধ করায় সন্তানের জননী হলেও মহিলাদের দেহের উপরের গঠন বেশ আঁটসাঁট ও দৃঢ় থাকে।


দেহের ক্ষিপ্রতা বাড়ে।


কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়।


যকৃতের কাজ ভাল হয়।


কুঁজোদের মেরুদণ্ড সোজা হয়।


হৃৎপিণ্ড সবল ও বুকের গঠন সুন্দর হয়।


হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।


পুরুষদের মরকণ্ড এবং মেয়েদের ঋতু রোগ ও শ্বেত প্রদরাদি স্ত্রীরোগ আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয়।


কুলকুন্ডলিনী শক্তি জাগরিত হন।


সায়টিকা, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না।


অজীর্ণ রোগীদের জন্য উপকারী।


থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থিকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।


দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।


ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব দুর হয়।


শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।


মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভালো হয়।

অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য করতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। 

আমাশয় রোগের প্রথম অবস্থাতেও এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী। 

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।