বৃহদন্ত্রে ও মলভাণ্ডের গায়ে অজীর্ণ দূষিত পদার্থ জমা হলে আমাশয় রোগ হয়। দূষিত বায়ু ও দূষিত পাচকরস ক্ষুদ্রান্ত্রের অজীর্ণ খাদ্যের সঙ্গে মিশে সমস্ত মল নালীতে বিশেষ করে নাভির চারদিকে যন্ত্রণার সৃষ্টি করে এবং বার বার কফ্ মিশ্রিত মল পায়খানার সঙ্গে নির্গত হয়—তখনই আমাশয় রোগের সৃষ্টি হয়েছে বুঝতে হবে। 
এই রোগে বার বার কুন্থনসহ মল নিঃসরণ হলে রোগীর যন্ত্রণার কিছুটা লাঘব হয়। এই রোগে একবার আক্রান্ত হলে সহজে নিরাময় হয় না।  

আমাশয় রোগীর পক্ষে ছানাজাতীয় খাদ্য, ছানা বা সিদ্ধ মাংস ( ষ্টু ) বিশেষ উপকারী। ডিমের সাদা অংশ বাদ দিয়ে লাল কুসুমটা  খাওয়া এই রোগীর পক্ষে বিশেষ ফলপ্রদ। 

যোগ চিকিৎসা

আমাশয় রোগী রোজ ভোরে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাস করে কোষ্ঠ পরিষ্কার করবেন। 

পরে নিজ সুবিধামতো সকালে ও বিকালে বা সন্ধ্যায় নিচের নিয়মে ব্যায়াম করবেন। 

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ওয়ার্মআপের জন্য ১, ২, ৪, ৫, ৮ এবং ১১ নং ব্যায়াম করুন।
 
খালি হাতে ব্যায়াম শেষ করার পর ২/৩ মিনিট শবাসন করতে হবে। 

এরপর পবন মুক্তাসনঅর্ধকূর্মাসনঅগ্নিসার এবং যোগমুদ্রা অভ্যাস করতে হবে। 

সবশেষে পাঁচ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে। 


অন্যান্য উপকারিতা

মলত্যাগ সহজ হয়।


যকৃত, প্লীহা ও পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।


পেটের পেশীকে সবল হয় ও পেটের চর্বি কমায়।


জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।


যকৃত ও পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


আমাশয়ের পাশাপাশি পেটের সব রোগ নিরাময় করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়। 

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

যৌন মিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।

হাঁপানি সেরে যায়। 

মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।

উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।

সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।