চিকিৎসক ও কামশাস্ত্রের মতে সুপ্তিস্খলন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। মেয়েদের যেমন ঋতু স্বাভাবিক ব্যাপার, পুরুষদের তেমনি মাসে ৩/৪ দিন সুপ্তিস্খলন স্বাভাবিক ব্যাপার।

দেহের গঠন ও পুষ্ঠির জন্য শুক্রের (বীর্য) প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত সঞ্চিত শুক্র অবশিষ্ট থাকলে—তাই রাত্রে স্বপ্নাবস্থায় বের হয়ে যায়।

এই জন্যই অবিবাহিত সুস্থ যুবকদের মাসে ৩/৪ দিন সুপ্তিস্খলন কোন ক্ষতি করতে পারে না। বরং তা তাদের কামচিন্তা ও উত্তেজনা হ্রাস করে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও সমতা রক্ষায় সহায়তা করে।

তবে দিবানিদ্রার মধ্যে সুপ্তিস্খলন, রাত্রে একাধিকবার সুপ্তিস্খলন, বা যে রাত্রে সুপ্তিস্খলন হয়েছে, তার পরদিন দুর্বলতা বোধ বা মাথাঘোরা বা মাথা ঝিম্ ঝিম্‌ করা এবং মাসে ৫/৬ দিনের বেশি সুপ্তিস্খলন হওয়া—রোগ হিসাবে গণ্য হয়।


কৈশোর ও প্রথম যৌবনে হস্তমৈথুন বা পুংমৈথুন ইত্যাদি দ্বারা স্বেচ্ছায় অস্বাভাবিকভাবে শুক্রপাত করলে সাধারণত পরবর্তীকালে সুপ্তিস্খলন রোগ হিসাবে দেখা যায়।


কুসংসর্গের ফলে অনেক সময় সরলমতি কিশোরেরা ক্ষণিক ও অসার আনন্দের মোহে হস্তমৈথুন করে অযথা শুক্রক্ষয় করে নিজ দেহকে অসার ও নিবীর্য করে এবং দেহ-মন্দিরকে নানা ব্যাধির আবাসস্থল করে তোলে।


বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে যখন তারা এর কুফল বুঝতে পারে তখন তারা এই বদ অভ্যাস ত্যাগ করে, কিন্তু এই সময় অনেক দিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত বীর্যপাত করার দরুন সুপ্তিস্খলন রোগ রূপে দেখা যায়।


এ ছাড়া কোষ্ঠ পরিষ্কার না হলে বা পেট গরম হলে বা পেটে বায়ু জমলে শুক্রাশয় উত্তপ্ত ও উত্তেজিত হয়। ফলে শুক্র ঊর্ধ্বগামী হয়ে রক্তের সঙ্গে মিশতে পারে না— অধোগামী হয়ে রাত্রে স্বপ্নাবস্থায় স্খলিত হয়ে যায়।


দিবানিদ্রাও রক্তকে উত্তপ্ত করে সুপ্তিস্খলনে সহায়তা করে। অধিকন্তু দিনে ঘুমালে রাতে ঘুম ভাল হতে চায় না। হালকা ঘুমের ফাঁকে সুপ্তিস্খলন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


যোগ চিকিৎসা


সুপ্তিস্খলন রোগে আক্রান্ত রোগীর দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। এই রোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রথমে কোষ্ঠ পরিষ্কারের জন্যে রোজ ভোরে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাস করতে হবে।


এ ছাড়া রাতে শোয়ার আগে কয়েকবার গোমুখাসন অভ্যাস করলে হাতে হাতে ফল পাওয়া যায়—সুপ্তিস্খলন অনেকটা কম হয়।


শেষরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুমানো উচিত নয়। তবে যদি মনে হয় তখনও ঘুমানো প্রয়োজন, তা হলে বিছানা থেকে উঠে অন্তত মূত্রত্যাগ করে এসে এক গ্লাস পানি পান করে

সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে আবার ঘুমালে স্বপ্নদোষ হওয়ার ভয় থাকে না।


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ১, ২, ৪, ৫, ৮ ও ১১ নং ব্যায়াম করতে হবে।


এরপর ২/৩ মিনিট শবাসন করতে হবে। 

শেষে  গোমুখাসনসর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রাভদ্রাসন বা গোরক্ষাসনঅর্ধমুখ শবাসন, মূলবন্ধ মুদ্রাশক্তিচালনী মুদ্রা এবং অগ্নিসার করতে হবে। 

সবশেষে আবারও পাঁচ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে। 


অন্যান্য উপকারীতা


পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্‌সম্‌নিয়া) থেকে মুক্তি।


তলপেটের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। পেটের মেদ কমে।

কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে।


স্বপ্নদোষ ও শীঘ্রপতন থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং বীর্যধারণ সহজ হয়।


মেয়েদের বস্তি ও হাঁটুর স্নায়ুমণ্ডলী বিশেষ প্রসারিত হওয়ায় সবল হয়। ফলে তাদের সন্তান প্রসবকালে বিশেষ কষ্ট পেতে হয় না।


যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অভ্যাসকারীর যৌন মিলনের ধারণ-শক্তি বৃদ্ধি পায়।


কামজয়ী ও ঊধর্বরেতা (শুক্র ক্ষয় করে নাই এমন ব্যক্তি) হতে সাহায্য করে। 


ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। অজীর্ণ দুর হয়। 


পেটের রোগ নিরাময় হয়। 

যৌন মিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।

মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন। 


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।