দীর্ঘদিন কোষ্ঠবদ্ধতায় ভোগার দরুন দেহের দূষিত ও কূপিত বায়ু অন্ত্রকে নিজস্থান হতে চ্যুত ও বহির্গমনে বাধা তৈরি করে যে রোগ সৃষ্টি করে তাকে হার্নিয়া বা অন্ত্রবৃদ্ধি রোগ বলে।

পাশ্চাত্য চিকিৎসা শাস্ত্রে তিন প্রকার হার্নিয়ার নাম শোনা যায়, যথা-(১) তলপেটের আবরণীতে যে ছিদ্র আছে সেই পথে অন্ত্রাংশ নেমে এলে ইন্গুইনাল হার্নিয়া, (২) তলপেটের যে ছিদ্রপথ দিয়ে দু’পায়ের দুদিকে ধমনী বের হয়ে গেছে সেই ছিদ্রপথে স্থানচ্যুত অন্ত্রাংশ নেমে এলে ফিমোরাল হার্নিয়া, (৩) নাভি ছিদ্র দিয়ে শিশুদের অন্ত্রাংশ বের হয়ে এলে আমবিলিক্যাল হার্নিয়া।


উল্লিখিত তিন প্রকার হার্নিয়া আবার নিম্নে প্রদত্ত যে কোনো তিনটি অবস্থার একটি প্রাপ্ত হতে পারে, যথা-


(ক) যে রোগে বর্ধিত নাড়ীকে হাত দিয়ে সহজে স্বস্থানে প্রেরণ করা যায় বা বস্তি স্নায়ু আকর্ষণ করে ঊর্ধ্বে তোলা যায়, তাকে রিডিউসেবল্ হার্নিয়া বলে।


(খ) বহিরাগত নাড়ী যখন এতো শক্ত হয়ে যায় যে, হাত দিয়ে সহজে স্বস্থানে প্রেরণ করা যায় না—সেই অবস্থাকে বলে ইরিডিউসেবল্ হার্নিয়া বলে।


(গ) বহিরাগত নাড়ী যখন ফুলে গুহ্যদ্বারের আংটিতে জড়িয়ে যায়, তখন তা ষ্টুংগিউলেটেড হার্নিয়া হয়ে যায়।


ইন্‌গুইনাল হার্নিয়া ও ফেমোরাল হার্নিয়া পীড়াদায়ক হলেও সাধারণত প্রাণনাশের কারণ হয় না। কিন্তু ইংগিউলেটেড হার্নিয়া অনেক সময় প্রাণনাশের কারণ হয়। এই হার্নিয়া পেকে উঠলে বা রক্তচলাচলের পথে বাধার সৃষ্টি করলে দ্রুত অস্ত্রোপচার ব্যতীত রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।


যোগ চিকিৎসা


এই রোগ উপশমের জন্যে রোগী রোজ ভোরে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাসের পর প্রাতঃকৃত্য শেষ করে মূলবন্ধ মুদ্রা, অশ্বিনী মুদ্রা, উড্ডীয়ান, পদহস্তাসন, উত্থিত পদাসন অভ্যাস করবেন।


বিকালে ১৫ মিনিট থেকে আধঘন্টা ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাসের পর আবার মূলবন্ধ মুদ্রা, অশ্বিনী মুদ্রা, অগ্নিসারসর্বাঙ্গাসন অভ্যাসে দ্রুত রোগ নিরাময় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


হার্নিয়া রোগীর নিম্নলিখিত জিনিসগুলি বর্জনীয়, যথা—


(১) কোনো ভারী জিনিস তোলা, (২) বৈঠক দেওয়া, (৩) মল ত্যাগের সময় কোঁথ দেওয়া, (৪) পেটভরে খাওয়া, (৫) অধিক পানি পান করা, (৬) ধনুরাসন, ময়ূরাসনচক্রাসন অভ্যাস।


হার্নিয়া রোগী অবশ্যই যা পালন করবে তা হ’ল—


(১) সহজপাচ্য খাদ্যে পেটের অংশ পূরণ করে খাওয়া।


(২) বারে বারে অল্প মাত্রায় পানি পান করা।


(৩) রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে উপবাস দেওয়া। এই সময় লেবুর বা কমলালেবুর রস মিশ্রিত পানি অল্প মাত্রায় বার বার পান করা।


(৪) যাতে বেশি হাঁচি-কাশি না হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখা।


অন্যন্যা উপকারিতা


কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে না।


অর্শ বা পাইলস রোগ হতে পারে না। হলেও সেরে যায়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। অজীর্ণ দুর হয়। পেটের যাবতীয় অসুখ সেরে যায়। 


পেটের মেদ কমে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


যৌন মিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।


ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড) সঞ্জীবিত হয় এবং স্নায়ুমন্ডলী শক্তিশালী হয়।


যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।


পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


যাদের প্লীহা বড় হয়েছে, হাঁপানি আছে, তাদের জন্য এই ব্যাায়াম বিশেষ উপকারী।


মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।