মাথাধরা থেকে মুক্তি
নানা কারণে মাথাধরা রোগ হতে পারে। নিম্নে কারণসহ কয়েকটি মাথাধরা রোগের বিবরণ দেওয়া হলো-
১. বাতজশিরোরোগ–কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য সাধারণতঃ এই ধরনের মাথাধরা রোগ হয়।
২. পিঞ্জ শিরোরোগ—দেহস্থ পিত্ত বিকৃত হয়ে রক্তের সঙ্গে মাথায় গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৩. কজ শিরোরোগ—–দূষিত শ্লেষ্মা ভ্ৰূর মধ্যে এসে বায়ুক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে এই রোগ দেখা দেয়।
৪. ক্ষয়জ শিরোরোগ–-স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় হলে সাধারণতঃ এই রোগ হয়।
যোগ চিকিৎসা
এই রোগে সহজ বস্তিক্রিয়া-এর সাহায্যে কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা একান্ত প্রয়োজন।
ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর সকালে ও সন্ধ্যায় ৪/৫ টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করতে হবে।
এরপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।
শবাসনের পরে গোমুখাসন, শক্তিচালনী মুদ্রা, কপালভাতি, পবন মুক্তাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, হলাসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা ও মৎস্যাসন অভ্যাস ফলপ্রদ।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে।
অন্যান্য উপকারিতা
পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্সম্নিয়া) দুর করে।
কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে।
তলপেটের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়।
কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে।
সুপ্তিস্খলন হ্রাস করে কামজয়ী ও ঊধর্বরেতা (শুক্র ক্ষয় করে নাই এমন ব্যক্তি) হতে সাহায্য করে। যৌন মিলনের ধারণ-শক্তি বৃদ্ধি পায়।
কফ্ দোষ বিনষ্ট হয়, কপালে সর্দি জমতে পারে না।
সাইনাস্ থাকলে দ্রুত সেরে যায় এবং সাইনাস্ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
হৃদযন্ত্র সবল হয়।
পেটের মেদ কমায়। জানুর ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।
মূত্রগ্রন্থি, যকৃত, প্লীহা ও পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।
সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র বা ডায়বেটিস, আমাশয় প্রভৃতি আরোগ্য হয়।
দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।
মেরুদণ্ড ও থাইরয়েড্কে সবল ও কর্মক্ষম করে।
সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।
কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য সেরে যায়।
কৃষ্ণতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।
যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।
ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব দুর হয়।
বুকের খাঁচা বড় করে।
শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।
হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।
মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
