দূষিত রক্ত ও রোগ-জীবাণু হৃদযন্ত্রে প্রবেশ করে এর স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করলে যে রোগ হয় তাকে হৃদরোগ বলে। এ ছাড়া হৃদ্‌রোগের আরও অনেক কারণ আছে, যথা অতিভোজন, অতি পরিশ্রম, গুরু ব্যায়াম, কোষ্ঠবদ্ধতা, দেহে অম্লরস ও বায়ুর আধিক্য, স্থূলত্ব, হাঁপানি ও অতিরিক্ত বীর্যক্ষয়, দুশ্চিন্তা বা টেনশন প্রভৃতি।

প্রায় পাঁচ ইঞ্চি লম্বা ও সাড়ে তিন ইঞ্চি চওড়া ক্ষুদ্র হৃদযন্ত্রটি আমাদের এই বিরাট দেহ-কারখানার প্রধান ইঞ্জিন ও সর্বময় কর্তা। এই ইঞ্জিনই দেহ-কারখানার সর্বোচ্চ স্থান মস্তিষ্ক থেকে আরম্ভ করে পদাংগুষ্ঠ পর্যন্ত সর্ব বিভাগে অর্থাৎ দেহের সর্বাঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহের সাথে সাথে পুষ্টিকর খাদ্য বহন করে।

দেহযন্ত্রের সর্বাঙ্গের ক্ষয়পূরণের ও বৃদ্ধি সাধনের সঙ্গে সঙ্গে ওইসব স্থানে সঞ্চিত আবর্জনা বহন করে এনে দেহযন্ত্রকে আবর্জনামুক্ত করে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।


হৃদ্‌রোগীর নিম্নলিখিত কাজগুলো অবশ্য বর্জনীয়। যথা—


(১) অধিক বা গুরুপাক খাদ্য ভোজন করা।


(২) অধিক খাদ্য ভোজন করা।


(৩) দুশ্চিন্তা করা।


(8) অতিরিক্ত বীর্যক্ষয়।


(৫) ধূমপান ও মাদক দ্রব্য গ্রহণ প্রভৃতি।


এই রোগীর নিম্নলিখিত কাজগুলো অবশ্য পালনীয়, যথা—


(১) লঘুপাক, সহজপাচ্য খাদ্য ও ফলমূলা খাওয়া।


(২) কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা।


(৩) অতিক্রোধ দমন।


(৪) দেহে অধিক চর্বি জমতে না দেওয়া।


(৫) অল্পমাত্রায় চা পান।


যোগ চিকিৎসা


এই রোগের কিছুটা শান্তি হলে সকালে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাসের পর প্রাতঃকৃত্য শেষ করে নিম্নলিখিত নিয়মে ব্যায়াম করতে হবে।


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম  থেকে ১, ৩, ৫, ৮, ৯ নং ব্যায়ামগুলো করবেন।  


খালি হাতে ব্যায়াম  শেষ করার পর ২/৩ মিনিট শবাসন করতে হবে। 


এরপর  যোগমুদ্রাবীরাসনপর্বতাসন (বসে), পবন মুক্তাসনঅর্ধচন্দ্রাসন১ নং সহজ প্রাণায়াম এবং  শীতলী অভ্যাস করতে হবে। 


বশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে যোগব্যায়াম শেষ করতে হবে। 


এছাড়া বিকালে মুক্তস্থানে ১৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করার পর ঘরে ফিরে ১০/১৫ মিনিট শবাসন অভ্যাস করতে হবে।


অন্যান্য উপকারিতা

তলপেটের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়।

কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে। পুরাতন কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয়।  


বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্লীহা ও রুগ্ন যকৃত ও ফুসফুসকে সুস্থ-সবল করে। স্নায়ু শক্তিশালী হয়। 

পেটে চর্বি জমতে পারে না এবং জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়।

পায়ের বাত দুর হয়।

মেরুদণ্ড শক্তিশালী হয়।

পায়ে, হাঁটুতে, কোমরে বা কাঁধে বাত হতে পারে না।

দেহের ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়।

পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।

বার্ধক্য সহজে আক্রমণ করতে পারে না। যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির এবং কিড্‌নির কাজ ভালো হয়।


রক্ত শুদ্ধ হয় এবং প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পায়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।