এই রোগ সাধারণত ছেলেমেয়েদের প্রথম যৌবনে হয়। এর জন্য তাদের শিবসতী গ্রন্থি ( পিটুইটারি) ও ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড্ ) দায়ী।


যৌবনের প্রারম্ভে তরুণদের শরীরে নানা কারণে যে বিকৃত শুক্রবিষ তৈরী হয়, রোগ-প্রতিরোধক শক্তি তাকে মুখের নরম চামড়ার ওপর দিয়ে ব্রণ আকারে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই কারণেই তরুণদের প্রথম যৌবনে মুখে ব্রণ দেখা দেয়।

যোগ চিকিৎসা

এই সময় সহজ বস্তিক্রিয়া-এর সাহায্যে কোষ্ঠ পরিষ্কার একান্ত প্রয়োজন।


প্রথমে ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন।  তারপর খালি হাতে ব্যায়াম  থেকে ৫/৬টি ব্যায়াম করুন। 


এরপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।  


তারপর গোমুখাসন, মূলবন্ধ মুদ্রা, পশ্চিমোত্তানাসন, মহাবদ্ধ মুদ্ৰা, হলাসন, অগ্নিসার, সর্বাঙ্গাসনমৎস্যাসন অভ্যাস করুন।


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


পথ্য

এই বয়সে ছেলেমেয়েদের রাতে এক গ্লাস ইসবগুল মিশ্রিত মিছরির জল পান করা, আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে শাক্‌সবজী, ফল, দুধ ও দই খাওয়া স্বাস্থ্যকর।


এর সাথে রোজ দুপুরে খাওয়ার ১ ঘন্টা পরে ডাবের পানি পান করলে বিশেষ উপকার হয়।


অন্যান্য উপকারিতা


পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্‌সম্‌নিয়া) দুর করে।


কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে। 


শঙ্খিনী নাড়ী সবল ও অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় মলাদি অন্ত্র হইতে সহজে নির্গত হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠবদ্ধতা দুর হয়।


পাইলস বা অর্শ রোগ হতে পারে না। হলেও সেরে যায়।


বৃদ্ধও যুবার মত স্বাস্থ্য ও শক্তির অধিকারী হয় এবং অভ্যাসকারীর যৌন মিলনের ধারণা-শক্তি বৃদ্ধি পায়।


মেরুদণ্ড, মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভালো হয়। 

সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য করতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। 

আমাশয় রোগের প্রথম অবস্থাতেও বিশেষ উপকারী। 

পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।

পুরুষের পিতৃগ্রন্থি এবং স্ত্রীলোকের মাতৃগ্রন্থি সুস্থ ও সবল হয়। ফলে পিতৃ ও মাতৃগ্রন্থি সংক্রান্ত সমস্ত রোগ হতে মুক্ত হওয়ায় যৌবনোচিত স্বাস্থ্যে, সৌন্দর্যে ও লাবণ্যে দেহ ভরপুর হয়ে ওঠে।

মেরুদণ্ড ও থাইরয়েড্‌কে সবল ও কর্মক্ষম করে। এতে তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।


সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। অজীর্ণ দুর হয়। পেটের যাবতীয় পীড়া নিরাময়ে সহায়তা করে। 

পেটের মেদ কমে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

যৌন মিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।

থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।

দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।


যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দুর হয়।


পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।


শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।