বাতরোগ আসলে কোনো রোগ নয়। সাধারণ একটি চলিত কথা। বাতরোগের সঠিক সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন।

তবে বিভিন্ন ধরনের আঘাত, রোগ ভোগ, প্রদাহ, বংশগত এবং অন্যান্য কারণে দেহে বিশেষ ধরনের ব্যথার উপসর্গের প্রকাশকে বাত বলা যেতে পারে।

বাত একটি অদ্ভূত রোগ বা উপসর্গ যার সঠিক কারণ আজও আমরা খুঁজে পাই না। আজও পৃথিবীতে এই রোগের সঠিক চিকিৎসা নেই।



বায়ু আমাদের দেহযন্ত্রের সর্বময় কর্তা। বায়ু দেহযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে শিরা ও স্নায়ুর সাহায্যে রক্তের সঙ্গে খাদ্যের সারাংশ প্রেরণের দ্বারা ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে এবং দেহে সঞ্চিত আবর্জনা, মলমূত্র ও ঘামের সাহায্যে দেহ থেকে নির্গত করে আমাদের দেহকে সুস্থ সবল ও কর্মঠ করে।


কোন কারণে দেহের আবর্জনা অধিকক্ষণ দেহমধ্যে সঞ্চিত হলে তার পচনে সৃষ্ট-বিষাক্ত বদ্ধ বায়ুকে দুষিত ও কূপিত করে ফলে বায়ু-ক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ায় দেহে সঞ্চিত বিষ নির্গমন কার্য ব্যাহত হয়। সঞ্চিত বিষাক্ত বাষ্প ও দূষিত বায়ু দেহ যন্ত্রের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিস্থলে সঞ্চিত হয়ে বাতরোগ সৃষ্টি করে।


বাতরোগ নানা প্রকার, যথা (১) সঞ্চিত বিষাক্ত বাষ্প দ্বারা পেশী আক্রান্ত হলে পেশীৰাত রুম্যাটিজম্, (২) সন্ধি আক্রান্ত হলে সন্ধিবাত—গাউট্‌, (৩) কটিদেশ আক্রান্ত হলে কটিবাত লাম্বাগো, (৪) ঘাড়ের পেশী আক্রান্ত হলে স্কন্ধবাত—সার ভাই ক্যাল স্পন্‌ডিলাইটিস প্রভৃতি।


যোগ চিকিৎসা


বাতরোগীর কোষ্ঠ যাতে পরিষ্কার থাকে সেদিকে সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সকালে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাসের পর টয়লেটে গেলে কোষ্ঠ সাধারণত পরিষ্কার হয়।


বস্তিক্রিয়া অভ্যাসে অসমর্থ রোগী রাত্রে খাবার পর ২/৩ চামচ ইসবগুলের ভূষি খেলে বা শেষরাত্রে ত্রিফলার পানি পান করলে সকালে মলত্যাগের বেগ আসে।


প্রাতঃকৃত্য সমাপনের পর রোগী ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে যেকোনো ৫/৬টি ব্যায়াম অভ্যাস করুন। এগুলো করতে হবে ওয়ার্মআপের জন্য। 


খালি হাতে ব্যায়াম শেষে ২/৩ মিনিট শবাসন করুন। 


তারপর বজ্রাসন, পবন মুক্তাসন, জানুশিরাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, উত্থিত পদ্মাসন, সর্বাঙ্গাসনমৎস্যাসন অভ্যাস করবেন।


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করবেন। 


বিকালে মুক্তস্থানে ১৫ মিনিট থেকে আধঘন্টা ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করবেন।


রোগী বৃদ্ধ হলে বা উল্লিখিত আসনগুলি অভ্যাসে অসমর্থ হলে কেবল সকালে ও বিকালে মুক্তস্থানে ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করবেন।


উপদেশ


বাতরোগী হালকা গরম পানিতে গোসল করবেন। গোসলের আগে যেকোনো গায়ে মাখার তেলদিয়ে নিজেই অঙ্গ-মর্দন করবেন। এবং সহজপাচ্য খাবার খাবেন।


এ ধরনের রোগীর পক্ষে ডিম, মাংসা ইত্যাদি গুরুপাক খাদ্য গ্রহণ না করাই ভালো।


অন্যান্য উপকারিতা


কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে না।


হজম শক্তি বাড়ে। অজীর্ণ দুর হয়।


ডায়ারিয়া ও আমাশয় হয় না।


যকৃত, প্লীহা ও পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।


পেটের পেশীকে সবল করে, পেটের চর্বি কমায় এবং জানুর ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়। দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।


মুত্রাশয়ের দোষ দুর হয়।


প্যানক্রিয়াসের কাজ ভালো হওয়ায় প্যানক্রিয়াস থেকে প্রয়োজনমতো ইনসুলীন রস বের হয়। তাই বহুমুত্র বা ডায়াবেটিস হয় না। হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকে।


মেরুদণ্ড, মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়। 


 ক্ষুধা বৃদ্ধি করে।


পেট হাত ও কাঁধের মাংসপেশিকে সবল ও অধিক কর্মক্ষম করে।


ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড) ও স্নায়ুমন্ডলী শক্তিশালী হয়।


যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।


যাদের হাঁপানি আছে তাদের জন্য এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী।


পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।


বুকের খাঁচা বড় করে।


শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হৃদযন্ত্র অধিক কর্মক্ষম হয় এবং রক্ত অধিকতর পরিশোধিত হয়।


হারানো স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা সহজ হয়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।