কৃশতা একটি রোগ, যার মূল কারণ হল – (১) পিতামাতার স্বাস্থ্যহীনতা ও দুর্বলতা বা স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের (হেলথ্ হাইজি) অভাব বা দারিদ্রতা। এ ছাড়া শিবসতী গ্রন্থির (পিটুইটারি) অধিক ক্ষরণ এবং মানসিক দুশ্চিন্তা।


সাধারণত রুগ্ন ও দুর্বল পিতামাতার ছেলে মেয়েরা দুর্বল হয়। অনেক সময় পিতামাতার বিশেষ করে মাতার স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞানের অভাবই এর জন্য দায়ী।


অনেক মা মনে করেন—ছেলেমেয়েরা যখনই কাঁদবে, তখনই তাদের খাওয়াতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অতি ভোজনই কচি ছেলেমেয়েদের পাকস্থলী ও যকৃতকে দুর্বল করে তাদের অজীর্ণতাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হতে সহায়তা করে।


ফলে এই ছেলেমেয়েরা কচি বয়স থেকেই কৃশ ও দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে আমাদের দেশে পিতা মাতার আর্থিক অভাব শিশুর কৃশতা ও দুর্বলতার একটি কারণ।


যুবকদের কৃশ ও দুর্বল হওয়ার প্রধান কারণ হলো--মানসিক দুশ্চিন্তা, ব্যায়াম বিমুখতা এবং এজন্য প্রধান প্রধান গ্রন্থিগুলির বিশেষ করে ইন্দ্রিয়গ্রন্থি, শিবসতী গ্রন্থির (পিটুইটারি) দুর্বলতা, বয়স্কদের বেলায় অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম ও সেই সঙ্গে বয়সোপযোগী শারীরিক পরিশ্রমের বা ব্যায়ামের অভাব। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবও যুবকদের ও বয়স্কদের কৃশ ও দুর্বল হওয়ার আর একটি কারণ।


মাতার স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞানের অভাবজনিত অতিভোজন বা দারিদ্র্যের দরুন পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবজনিত অপুষ্ট কৃশ ও দুর্বল শিশুরা যখন পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করবে, তখন থেকেই তাদের যদি সামর্থ্যমত পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করে স্বাভাবিকভাবে দৌড়ঝাপ করবার সাথে সাথে অল্প মাত্রায় অর্ধচন্দ্রাসন, পদহস্তাসনত্রিকোণাসন অভ্যাস করা যায় তা হলে তারা ২/৩ বৎসরের মধ্যে অন্যান্য - শিশুর মতো সুস্থ ও সবল হয়ে উঠবে।


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ব্যায়াম নং ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৮ অভ্যাসের পর ২/৩ মিনিট শবাসন করবেন।


তারপর যৌগিক ব্যায়াম থেকে ৮টি আসন ও মুদ্রা, যথা- (১) গোমুখাসন, (২) পবন মুক্তাসন, (৩) অর্ধকূর্মাসন, (৪) শশাংগাসন, (৫) উষ্ট্রাসন, (৬) অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, (৭) সর্বাঙ্গাসন ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করবেন।


সবশেষে ৫ মিনিট আবার শবাসন করবেন। তা হলে তারা অচিরে অধিকতর সুস্থ, সবল ও কর্মঠ হয়ে জীবনযাপন করতে পারবেন।


আর বয়স্করা যদি নিয়মিত রোজ সকালে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাসে দাস্ত পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে সকালে ও বিকালে অল্প মাত্রায় পবন মুক্তাসন, অর্ধকূর্মাসন, যোগমুদ্রা-এর সাথে ভ্রমণ প্রাণায়াম এবং নাড়ী শোধন প্রাণায়াম অভ্যাস করেন, তা হলে তাঁরা সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে কর্মঠ দীর্ঘজীবন লাভ করবেন।


অন্যান্য উপকারিতা


পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্‌সম্‌নিয়া) দুর করে এবং কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে। 


ডায়রিয়া হয় না। 


যকৃত, প্লীহা ও পাকস্থলীর দুর্বলতাজনিত রোগ সেরে যায়।


পেটের পেশীকে সবল করে, পেটের চর্বি কমায় এবং জানুর ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।


পেটের অসুখ সারে ও ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। আমাশয় হয় না। হলে সেরে যায়।


মেরুদণ্ড সুস্থ ও সবল হয়। 

হজম শক্তি বাড়ে। 

থাইরয়েড ও পিটুইটারি গ্রন্থি ও প্যানক্রিয়াসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বহুমূত্র, অস্বাভাবিক স্থূলত্ব বা শীর্ণতা রোগ হয় না এবং শরীর যৌবনোচিত পুষ্টি লাভ করে। 

যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়। বুকের খাঁচার আকার বৃদ্ধি পায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়।

বীর্যধারণশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্তিস্খলন হ্রাস পায়।

হাঁপানি সেরে যায়।

ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দুর হয়।

পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।

শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।